বিগ ডেটার জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি তুলে ধরলেন গবেষকরা

২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০৬:৪৮  

ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো মহাকাশ বিজ্ঞানের আধুনিক দিক নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী বক্তৃতা। রবিবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গবেষক ড. সৈয়দা লামমীম আহাদ এবং রুসলান ব্রিলেনকোভ। ড. আহাদ বর্তমানে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু এর ওয়াটারলু সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন এবং রুসলান ব্রিলেনকোভ নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব খ্রোনিঙ্গেনের ক্যাপ্টেইন অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইন্সটিটিউটের পিএইচডি গবেষক।

বক্তৃতাটি বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সহযোগিতায় বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৬০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। 

বক্তৃতার প্রথম অংশে ড. আহাদ মহাবিশ্বের জটিল প্রশ্নগুলো যেমন- ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি, গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং বহির্জাগতিক জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেখান কিভাবে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড মিশন এবং অন্যান্য আকাশ জরিপ প্রকল্পগুলো এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অবদান রাখছে। 

মি. ব্রিলেনকোভ তার অংশে বড় ডেটার কার্যকরী ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ডেটার চারটি বৈশিষ্ট্য—ভলিউম, ভ্যারাইটি, ভেলোসিটি এবং ভেরাসিটি— আকাশ জরিপে কিভাবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে রুবিন অবজারভেটরির LSST প্রকল্প প্রতি রাতে ২০ টেরাবাইট ডেটা সংগ্রহ করবে, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের জন্য একটি বিপ্লব।

বক্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং-এর ব্যবহার এবং নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়, যেখানে বক্তারা তাদের কাজ এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গবেষণার নতুন দিকনির্দেশনা দেন। কিভাবে বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন মহাকাশ প্রকল্পে অংশগ্রহণ করা সম্ভব, তা নিয়েও কথা বলেন।

২০০৯ সাল থেকে এই বক্তৃতাটি উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ রাধাগোবিন্দ চন্দ্রের জীবন ও তাঁর অমূল্য অবদানের স্মরণে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি আয়োজন করে আসছে। প্রতি আয়োজনের শুরুতে রাধাগোবিন্দ চন্দ্রকে স্মরণ করে তার জীবনী পাঠ করা হয়।